হিন্দু তন্ত্র ও মন্ত্র
ভারতীয় তান্ত্রিক ঐতিহ্য, মন্ত্র, দেবী-দেবতা ও সাধনাপদ্ধতির শিক্ষামূলক সংকলন।
অঘোর তন্ত্রের শ্মশান সাধনা — মৃত্যুঞ্জয় শক্তি অর্জনের বিরল পদ্ধতি
অঘোর পন্থা হিন্দু তন্ত্রের সবচেয়ে গোপন শাখা। শ্মশানে সাধনা করে মহাকালের শক্তি অর্জন করা হয়।
দক্ষিণা কালীর দশ মহাবিদ্যা সাধনা — অপ্রকাশিত ষোড়শোপচার পূজা বিধি
দশ মহাবিদ্যার মধ্যে দক্ষিণা কালী সবচেয়ে জাগ্রত। রামকৃষ্ণ পরমহংস এই সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছেন।
তারা তন্ত্রের নীল সরস্বতী সাধনা — বাগ্বিদ্যা ও সম্পদ লাভের অতি গোপন মন্ত্র
তারা দেবী দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় বিদ্যা। বৌদ্ধ তন্ত্রেও তারার বিশেষ স্থান আছে।
নাগপাশ তন্ত্র — শত্রুকে বন্ধন করার অতি বিরল সর্পতান্ত্রিক বিদ্যা
নাগবিদ্যা ভারতের প্রাচীনতম তান্ত্রিক বিদ্যা। বাসুকি, শেষনাগ ও তক্ষকের শক্তি আহ্বান করে কার্যসিদ্ধি করা হয়।
বটুক ভৈরব সাধনা — ক্ষিপ্র ফলদায়ী শত্রুতা ও বিরোধ প্রশমন ও সুরক্ষার গোপন তন্ত্র
বটুক ভৈরব শিবের ক্ষুদ্র রুদ্র রূপ। ৬৪টি ভৈরবের মধ্যে বটুক সবচেয়ে দ্রুত ফলদায়ী।
ত্রিপুরা ভৈরবী সাধনা — বশীকরণ ও সম্মোহনের সর্বোচ্চ তান্ত্রিক পদ্ধতি
ত্রিপুরা ভৈরবী দশ মহাবিদ্যার পঞ্চম বিদ্যা। ভৈরবীর সাধনায় সম্মোহন শক্তি ও বাক্সিদ্ধি লাভ হয়।
শ্রীযন্ত্র সাধনা — মহালক্ষ্মীর স্বর্ণযন্ত্রের গোপন প্রতিষ্ঠা বিধি ও অক্ষয় সম্পদ লাভ
শ্রীযন্ত্র তন্ত্রের রাজা। ৯টি ত্রিভুজের সমন্বয়ে তৈরি জ্যামিতিক চিত্র যা পুরো ব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক।
কুণ্ডলিনী জাগরণের সাত চক্র সাধনা — মূলাধার থেকে সহস্রার পর্যন্ত শক্তি উত্থান
কুণ্ডলিনী হলো মেরুদণ্ডের মূলে সুপ্ত সর্পিল শক্তি। জাগ্রত হলে সাত চক্র ভেদ করে সহস্রারে পৌঁছায়।
আদিত্য হৃদয় স্তোত্র — রামের যুদ্ধজয়ের মন্ত্র ও রোগমুক্তির শক্তিশালী স্তুতি
রাবণের সাথে যুদ্ধে ক্লান্ত রামচন্দ্রকে অগস্ত্য মুনি এই স্তোত্র শিখিয়েছিলেন।
গণপতি অথর্বশীর্ষ — বিঘ্ননাশের সর্বশ্রেষ্ঠ উপনিষদীয় মন্ত্র ও গোপন বশীকরণ প্রয়োগ
গণপতি অথর্বশীর্ষ উপনিষদে গণেশকে পরব্রহ্ম বলা হয়েছে। এই মন্ত্র রোজ পাঠ করলে সব বাধা দূর হয়।
হনুমান বজ্রকবচ — ভূত-প্রেত ও কালো জাদু থেকে রক্ষার অজ্ঞাত তান্ত্রিক কবচ
হনুমান বজ্রকবচ সাধারণ চালিসা থেকে আলাদা। ভূত প্রেত ও কালো রহস্যবিদ্যার বিরুদ্ধে অভেদ্য সুরক্ষা দেয়।
স্বপ্নাদেশ তন্ত্র — ঘুমের মধ্যে দেবতার দর্শন ও ভবিষ্যৎ জানার অজানা পদ্ধতি
স্বপ্নতন্ত্রে ঘুমের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে দেবতাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়। প্রাচীন রাজারা এই পদ্ধতিতে ভবিষ্যৎ জানতেন।
ত্রাটক সাধনা — দৃষ্টিশক্তি দিয়ে সম্মোহন ও তৃতীয় নয়ন জাগরণের গোপন পদ্ধতি
ত্রাটক হলো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে অবিচল দৃষ্টি স্থির রাখার যোগ পদ্ধতি। দৃষ্টির মাধ্যমে সম্মোহন ক্ষমতা জন্মায়।
কুবের ধনদ মন্ত্র — যক্ষরাজের অপ্রকাশিত ধনাগম মন্ত্র ও যন্ত্র স্থাপন বিধি
কুবের হলেন যক্ষরাজ ও ধনের দেবতা। তিনি উত্তর দিকের অধিপতি। কুবেরের মন্ত্র ও যন্ত্র ঘরে স্থাপন করলে অক্ষয় ধন আসে।
মহালক্ষ্মী অষ্টক — ঋণমুক্তি ও অক্ষয় সম্পদের জন্য বিরল অষ্টোত্তর শতনাম পাঠ
শ্রীসূক্তে মহালক্ষ্মীর বর্ণনা আছে। শুক্রবার ও পূর্ণিমায় লক্ষ্মী পূজায় ঘরে অখণ্ড সমৃদ্ধি আসে।
চন্দ্র মন্ত্র সাধনা — মানসিক শান্তি ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির বৈদিক বিশেষ পদ্ধতি
চন্দ্র মানসিক শক্তি ও স্মৃতির কারক। চন্দ্র দোষ কাটলে মানসিক শান্তি আসে।
সম্পূর্ণ বশীকরণ তন্ত্র — মন্মথ বাণ ও কামদেবের পাঁচ পুষ্পশরের তান্ত্রিক প্রয়োগ
কামদেবের পাঁচটি ফুলের বাণ রয়েছে। পাঁচ ফুলের বিশেষ পূজায় যেকোনো মানুষের মন আকৃষ্ট করা সম্ভব।
সন্তান গোপাল মন্ত্র — নিঃসন্তান দম্পতির জন্য শ্রীকৃষ্ণের সন্তানলাভের বিরল মন্ত্র
সন্তান গোপাল তন্ত্রে কৃষ্ণের সন্তানদানকারী রূপের বিস্তারিত পূজা বিধান আছে।
দুর্গা সপ্তশতী পাঠের তান্ত্রিক বিধি — চণ্ডীপাঠের গোপন নিয়মাবলী ও ফলাফল
দুর্গা সপ্তশতী ৭০০টি শ্লোকের সমষ্টি। প্রতিটি শ্লোকের পরে বিশেষ বীজমন্ত্র যোগ করলে তান্ত্রিক ফল পাওয়া যায়।
ধন্বন্তরি মন্ত্র — দেবতাদের চিকিৎসক দুরারোগ্য ব্যাধির তান্ত্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি
ধন্বন্তরি বিষ্ণুর অবতার ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মন্ত্রপাঠে দুরারোগ্য রোগ সারে।
শিব তাণ্ডব স্তোত্র — রাবণ রচিত সর্বশক্তিশালী স্তুতি ও তান্ত্রিক জীবনীশক্তি জাগরণ
রাবণ শিবের মহাভক্ত। অহংকার নষ্ট হলে এই তাণ্ডব স্তোত্র রচনা করেন। এই স্তোত্রের শক্তি অপরিসীম।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের তান্ত্রিক প্রয়োগ — মৃত্যু জয়ের সর্বোচ্চ বৈদিক তন্ত্র
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ঋগ্বেদের সবচেয়ে শক্তিশালী মন্ত্র। মার্কণ্ডেয় মুনি এই মন্ত্রে মৃত্যুকে জয় করেছিলেন।
তন্ত্রের ষট্কর্ম রহস্য — শান্তি থেকে মারণ পর্যন্ত ছয় তান্ত্রিক ক্রিয়ার বিবরণ
তন্ত্রশাস্ত্রে ছয়টি প্রধান কর্ম: শান্তি বশীকরণ স্তম্ভন বিদ্বেষণ উচ্চাটন ও মারণ।
বগলামুখী — শত্রুর বাক ও কর্মশক্তি স্তম্ভনের সর্বশক্তিমান স্তম্ভন তন্ত্র
বগলামুখী দশ মহাবিদ্যার অষ্টম বিদ্যা। তিনি হলুদ বর্ণা। শত্রুকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দেন।
ধূমাবতী সাধনা — দারিদ্র্য ও বিধবা দেবীর বিরল তন্ত্র যা সাধারণত প্রকাশিত হয় না
ধূমাবতী দশ মহাবিদ্যার সপ্তম বিদ্যা। বিধবা রূপা। তাঁর সাধনায় শত্রু ও রোগ নাশ হয়।
মাতঙ্গী — সংগীত ও বাগ্শক্তির তান্ত্রিক দেবীর অপ্রকাশিত সাধনা পদ্ধতি
মাতঙ্গী দশ মহাবিদ্যার নবম বিদ্যা। তিনি তান্ত্রিক সরস্বতী। সংগীতজ্ঞ ও কবিরা তাঁর উপাসনা করেন।
ত্রিপুর ষোড়শী — শ্রীবিদ্যার সর্বোচ্চ দেবীর পঞ্চদশী মন্ত্রের গোপন প্রয়োগ
ষোড়শী দশ মহাবিদ্যার তৃতীয় বিদ্যা ও শ্রীবিদ্যার মূল দেবী। পঞ্চদশী মন্ত্র তন্ত্রের সর্বোচ্চ মন্ত্র।
ভুবনেশ্বরী — বিশ্বজননীর তান্ত্রিক সাধনা ও নেতৃত্বশক্তি অর্জনের গোপন পদ্ধতি
ভুবনেশ্বরী দশ মহাবিদ্যার চতুর্থ বিদ্যা। সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড তাঁর শরীরে। নেতৃত্ব ও জ্ঞানের জন্য তাঁর উপাসনা।
নবার্ণ মন্ত্র — দুর্গা সপ্তশতীর মূলমন্ত্র যা সকল মন্ত্রের মাতা
নবার্ণ মন্ত্রে নয়টি বীজ আছে। এটি সকল তান্ত্রিক মন্ত্রের উৎস।
ছিন্নমস্তা তন্ত্র — বিদ্যুৎশক্তির দেবীর অতি গোপন সাধনা ও বিবাহ বাধা দূরের মন্ত্র
ছিন্নমস্তা দশ মহাবিদ্যার ষষ্ঠ বিদ্যা। নিজের মাথা কেটে স্বয়ং পান করেন। আত্মত্যাগ ও অহংকার বিসর্জনের প্রতীক।
অষ্টসিদ্ধি লাভের তান্ত্রিক পথ — অণিমা থেকে বশিত্ব পর্যন্ত আট সিদ্ধির গোপন সাধনা
অণিমা মহিমা গরিমা লঘিমা প্রাপ্তি প্রাকাম্য ঈশিত্ব ও বশিত্ব — আটটি সিদ্ধি দীর্ঘ সাধনায় অর্জিত।
গায়ত্রী মন্ত্রের ২৪টি অক্ষরের গোপন তান্ত্রিক রহস্য — পুরষ্ণারণ ও লক্ষ জপের বিধি
গায়ত্রী মন্ত্র ঋগ্বেদের সর্বোচ্চ মন্ত্র। ২৪টি অক্ষর ২৪টি শক্তির প্রতীক।
বিষহর মন্ত্র ও গরুড় বিদ্যা — সর্পদংশন থেকে মুক্তির অথর্ববেদীয় তন্ত্র
গরুড় বিদ্যা সর্পবিষ নিরাময়ের প্রাচীনতম তান্ত্রিক পদ্ধতি। অথর্ববেদে বিষনাশের বহু মন্ত্র আছে।
প্রেত-পিশাচ মুক্তির তান্ত্রিক পদ্ধতি — মৃতাত্মার অভিশাপ থেকে মুক্তির বিরল বিদ্যা
অকাল মৃত্যু বা হত্যায় মৃত ব্যক্তির আত্মা প্রেত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। গরুড় পুরাণে এর মুক্তির বিধান আছে।
পঞ্চমুখী শিব মন্ত্র — সদ্যোজাত থেকে ঈশান পর্যন্ত পাঁচ মুখের পৃথক শক্তি ও সাধনা
শিবের পাঁচটি মুখ: পূর্বে তৎপুরুষ দক্ষিণে অঘোর পশ্চিমে সদ্যোজাত উত্তরে বামদেব ও ঊর্ধ্বে ঈশান।
অথর্ববেদীয় ওষধি মন্ত্র — প্রাচীন ভেষজ উদ্ভিদের তান্ত্রিক শক্তি জাগানোর পদ্ধতি
অথর্ববেদে ওষধিকে জীবন্ত সত্তা বলে বিবেচনা করা হয়। মন্ত্র পড়ে ওষধি তুললে শক্তি বহুগুণ বাড়ে।
নাগমণি প্রাপ্তির তান্ত্রিক উপায় — সহস্রবর্ষী সর্পরত্নের রহস্য ও মন্ত্র সাধনা
নাগমণি ভারতীয় লোকবিশ্বাসে এক রহস্যময় রত্ন। পূর্ণিমার রাতে নাগেরা মণি নিয়ে জলাশয়ের কাছে আসে।
শক্তিপাত দীক্ষা — গুরু থেকে শিষ্যে শক্তি সঞ্চারের অতি গোপন তান্ত্রিক প্রক্রিয়া
শক্তিপাত হলো গুরু থেকে শিষ্যে সরাসরি শক্তি সঞ্চারের প্রক্রিয়া। এতে কুণ্ডলিনী তাৎক্ষণিকভাবে জাগ্রত হতে পারে।
তারকব্রহ্ম মহামন্ত্র — হিন্দু তন্ত্রের সর্বোচ্চ মন্ত্রের রহস্য ও পরম সিদ্ধির পথ
ওঁ — একটি একাক্ষর যা সমস্ত বিদ্যার মূল। মণ্ডূক্য উপনিষদে ওঁ-এর চারটি মাত্রার কথা বলা আছে।
শত্রু উচ্চাটনের মারণ তন্ত্র — শমন বিদ্যার ত্রিশূল প্রয়োগ ও বিপরীত যন্ত্র সাধনা
উচ্চাটন হলো ষট্কর্মের পঞ্চম কর্ম। শত্রুকে তার স্থান বা পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।